সর্বশেষ সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: 02:00:50 pm, 2024-12-14 | দেখা হয়েছে: 905 বার।
সম্প্রতি দেশের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, এবং ব্যবসায়িক সংগঠন ও আয়োজনে অর্থ সংগ্রহের নামে চাঁদাবাজির প্রবণতা বেড়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গ ও গোষ্ঠী, যা জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি সংগঠনগুলোর প্রতি আস্থাহীনতার জন্ম দিচ্ছে। সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এ প্রবণতা সমাজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে নড়বড়ে করে তুলতে পারে। বেশিরভাগ সংগঠন অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের বিষয়ে কোনো ধরনের হিসাব প্রকাশ করে না। স্থানীয় প্রশাসনের দুর্বল নজরদারি এবং অপরাধীদের শাস্তি না দেওয়ার ফলে এ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সংগঠনের নাম ব্যবহার করা হয়। সাধারণ জনগণ অনেক সময় জানেই না যে সংগঠনের নামে তোলা অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না। ফলাফল হিসেবে প্রকৃত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও আস্থাহীনতার শিকার হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে। সাধারণ জনগণের অর্থ অপব্যবহৃত হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। এখান থেকে সমাধানের পথ হিসেবে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। সংগঠনের নামে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিটি সংগঠনের কার্যক্রম নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। সংগঠনগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে প্রকাশ করতে হবে। সদস্যদের পরিচিতি এবং কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য পরিষ্কারভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে। সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া, এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। চাঁদাবাজির শিকার হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে উৎসাহিত করতে হবে। সংগঠনগুলোতে সৎ, নিষ্ঠাবান, এবং জনস্বার্থে নিবেদিত ব্যক্তিদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে। বিতর্কিত এবং অপকর্মে জড়িত ব্যক্তিদের সংগঠন থেকে দূরে রাখতে হবে। সংগঠন বা আয়োজনে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন সমাজের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব। জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন, সংগঠন, এবং জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবেই সমাজে সংগঠনগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, এবং এই অরাজকতা থেকে মুক্তি মিলবে।