Image Not Found!
ঢাকা   রবিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সর্বশেষ সংবাদ

  ফুলবাড়িয়ায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত (2)        ক-শ্রেণীর পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত হয়েও ফুলবাড়িয়া পৌরবাসী কি সব সুবিধা পাচ্ছে? (2)        ফুলবাড়িয়া উপজেলা মানবাধিকার কমিশনের কমিটি ঘোষণা (2)        ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতার বিরোধিতা কেন্দ্র করে প্রতিবাদ কর্মসূচি (2)        গাজীপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত সাংবাদিক তুহিনের পরিবারের পাশে পুলিশ সুপার (2)        সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের কবর জিয়ারত করলেন ফুলবাড়ীয়া ইউএনও, পাশে থাকার আশ্বাস (2)        ফুলবাড়ীয়ায় সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার ১ (2)        ফুলবাড়ীয়ায় গ্রামের বাড়ীতে সাংবাদিক তুহিনকে পারিবারিক কবরাস্থানে দাফনঃ ক্ষোভে ফুঁসছে মানুষ (2)        বড়বিলায় রাস্তা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক (2)        উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদ শুভেচ্ছা (108)      

ফুলবাড়িয়ায় এডিপি প্রকল্পে ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ: দুদকের তদন্তে অনিয়মের সত্যতা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া ৭৫ লাখ টাকার ৮টি প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পগুলোর কোনো কাজই হয়নি বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার (২২ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহ দুদকের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল প্রকল্পগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায় । এডিপি বরাদ্দকৃত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ইছাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কার: বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা। আন্ধারিয়াপাড়া বিডিএস দাখিল মাদ্রাসার সংস্কার: বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা। কাচিচূড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন: বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা। সলেমন নেছা এতিমখানা ও দাখিল মাদ্রাসার সংস্কার: বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা। অন্নেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন: বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা। উপজেলা পরিষদ রাস্তায় (এইচবিপি) সংস্কার: বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির উন্নয়ন: বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা। উপজেলা চেয়ারম্যানের কোয়ার্টার মেরামত: বরাদ্দ ৫ লাখ টাকা। কাগজপত্রে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হলেও অধিকাংশ জায়গায় কোনো কাজ হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে সামান্য কাজ দেখিয়ে পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। ইছাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. নজিবা আক্তার বলেন, "প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছু জানতাম না। বরাদ্দের বিষয়ে জানার পরেও আমাকে প্রকল্পের কোনো কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। মনে হচ্ছে আমার স্বাক্ষর জাল করে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।" সলেমন নেছা এতিমখানা ও দাখিল মাদ্রাসার জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কলেজ শিক্ষক নাজমুল হক বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এতিমদের বরাদ্দ আত্মসাৎকারীরা একেবারেই নৈতিকতা হারিয়েছে।" দুদকের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়া বলেন, "অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সরেজমিনে গিয়ে ছয়টি প্রকল্প পরিদর্শন করেছি। অভিযোগগুলো সত্য বলে প্রমাণ পেয়েছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাজ শুরুই হয়নি, আবার কোথাও সামান্য কাজ দেখিয়ে পুরো বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। বিশেষত শিল্পকলা একাডেমি ও উপজেলা পরিষদের রাস্তার সংস্কারে আমরা মারাত্মক অনিয়ম পেয়েছি।" তিনি আরও জানান, "প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী জালাল সম্প্রতি বদলি হয়েছেন। বর্তমান ভূমি কমিশনার দায়িত্বে আছেন। আমরা প্রাপ্ত রেকর্ড ও তথ্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করব।" প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রসাদ এন্টারপ্রাইজের মালিক বিশ্বজিৎ বলেন, "আটটির মধ্যে তিনটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলোর টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।" উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, "কিছু প্রকল্পের কাজ হয়নি, তবে টাকা আত্মসাতের ঘটনা সত্য নয়। বরাদ্দকৃত অর্থ পে-অর্ডার করা হয়েছে এবং দ্রুত তা ফেরত দেওয়া হবে।" স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের মদদে এ ধরনের দুর্নীতি সম্ভব হয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এতিমদের উন্নয়নমূলক কাজে বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করে কর্মকর্তারা নিজেদের পকেট ভারী করেছেন।" দুদকের এই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরপরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। জনগণের অর্থ আত্মসাতের এমন ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয়রা।

Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!
Image Not Found!